
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারক যশবন্ত বর্মার বাড়িতে নগদ অর্থ পাওয়ার ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে কল রেকর্ড ও সুরক্ষা কর্মীদের বিশদ তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ। ভারতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অনুরোধে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গত ১৪ মার্চ দিল্লির তুঘলক রোডে অবস্থিত বিচারপতি বর্মার সরকারি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় দমকল বাহিনী ও পুলিশ বন্ধ ঘরটি খুলে ফেললে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান মেলে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে শুধু “অফিসের সরঞ্জাম ও গৃহস্থালি জিনিসপত্র” পোড়ার উল্লেখ রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় অরোড়ার কাছে পাঠানো চিঠিতে বিচারপতি বর্মার বাসায় গত ছয় মাসে নিয়োজিত সুরক্ষাকর্মীদের (দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ) নাম, পদবি, পরিচয় নম্বর ও মোবাইল নম্বর সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, একই সময়ের জন্য বিচারপতির কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিটেইল রেকর্ড (আইপিডিআর) হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি.কে. উপাধ্যায়ের সচিব নরেশ চন্দ্র গর্গ এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

সূত্র অনুযায়ী, পুলিশ ইতিমধ্যে কল রেকর্ড হাইকোর্টে জমা দিলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের ডেটা সংগ্রহ চলছে। এছাড়া, নিউ দিল্লি জেলার পুলিশকে ১৪ মার্চের ঘটনায় প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল কর্মীদের তালিকা ও ঘটনার ধারাবিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বিচারপতি বর্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই বদলি তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়। উল্লেখ্য, যশবন্ত বর্মা ২০২১ সালে দিল্লি হাইকোর্টে নিয়োগ পান, এর আগে তিনি প্রায় সাত বছর এলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়িত্ব পালন করেন।
তদন্ত কমিটি এখন বিচারপতির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণ পর্যালোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ন্যায়পালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, যা আইনি মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রয়োজন বিচারব্যবস্থায় আমূল সংস্কার: বিচারকদের সম্পত্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া, এবং জনগণের সরাসরি নজরদারি। নইলে, যে আদালতের ভিত্তি ‘সত্যমেব জয়তে’, তার স্থান হবে ইতিহাসের জাদুঘরে—আর বাস্তবে রাজত্ব করবে ‘টাকার নোট’-এর ন্যায়বিচার!