
মুম্বাই: ঈদ উৎসবের সময় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং বোমা বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা উঠে আসায় মুম্বাই পুলিশ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে। একজন ছাত্রের সতর্কতামূলক বার্তার পর পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করেছে। গাজিয়াবাদের ২৩ বছর বয়সী এক যুবক, যিনি এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে পুলিশকে উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন, তিনি দাবি করেছেন যে ঈদের সময় “অগ্নিসংযোগ”, “বোমা হামলা” এবং “হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ” হতে পারে। তার মতে, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি অবৈধ অভিবাসীরা এই ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে।

একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে নবি মুম্বাই পুলিশকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ঈদের সময়, ডোঙ্গরির মতো এলাকায় বসবাসকারী কিছু অবৈধ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।” এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় নবি মুম্বাই পুলিশ ওই ব্যক্তির কাছে তাঁর ফোন নম্বর চেয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চেয়েছে।
এই সতর্কতার পর মুম্বাই শহরে নিরাপত্তা আরও শক্ত করা হয়েছে। ডোঙ্গরি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “মুম্বাই পুলিশের সঙ্গে ক্রাইম ব্রাঞ্চ, এন্টি টেররিজম স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।” তবে এখনও পর্যন্ত কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়নি।

একই ব্যক্তি দিল্লির জন্যও একই রকম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, দিল্লি পুলিশ এবং উত্তর প্রদেশ পুলিশকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “ঈদের সময় ৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদনি চক, জামা মসজিদ এবং জাহাঙ্গীরপুরীতে কিছু অবৈধ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি মুসলিম দাঙ্গা বা বোমা হামলা চালাতে পারে।”
এই সতর্কবার্তার উৎস একটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট, যা ২০২২ সালের এপ্রিলে তৈরি হয়েছে। অ্যাকাউন্টটির ব্যবহারকারী “দ্য শাশ্বত শুক্লা ট্রুথ স্পিকস” নামে পরিচিত এবং তিনি গাজিয়াবাদের একজন ২৩ বছর বয়সী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র। তিনি নিজেকে তাঁর প্রোফাইলে “প্রকৃত জাতীয়তাবাদী” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভারতে রমজান সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর শুরু হয়। আগামী ৩০ মার্চ রমজানের ২৯তম দিনে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৩১ মার্চ ঈদ পালিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।