পুরুলিয়ার শহর সংলগ্ন লাগদা গ্রামে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে নিয়মিতভাবে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগ, ‘ওম নার্সিংহোম’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানে গোপনে বিভিন্ন ধরনের অপারেশন চালানো হচ্ছে। চিকিৎসার নামে রোগীর পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। কিন্তু হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সরকারি ছাড়পত্র নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে দিনের পর দিন চিকিৎসা চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।রোগীদের একাংশের দাবি, সমস্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি হুমকি ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চাইছেন না।নাপিতপাড়ার বাসিন্দা রিতা প্রামানিক জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি সেখানে হার্নিয়ার অপারেশন করান। চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা দেখা দিলে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পরিবারের অভিযোগ, সেখানে গেলে কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করে উল্টে খারাপ ব্যবহার করে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। বাধ্য হয়ে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন।ঘটনার পর মঙ্গলবার পরিবারটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অশোক বিশ্বাস জানান, ওই নার্সিংহোমের কোনও বৈধ অনুমোদন নেই। তাই সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বেআইনি। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, অনুমতি ছাড়াই কীভাবে এতদিন চিকিৎসা চলল এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল কীভাবে। এখন দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সরব স্থানীয়রা।
Popular Categories


