রমজান মাস শুরু হলেই মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় বই পড়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। এই সময় অনেকে বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে হাদিস, নবী মহম্মদ (সা.)-এর জীবনকথা এবং ইসলামি শিক্ষাবিষয়ক বই পড়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে বইয়ের দোকানগুলোতে ইসলামি বইয়ের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
কলকাতার বই কেনাবেচার প্রধান জায়গা কলেজ স্ট্রিট। রমজান মাসে এখানেই সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। ধর্মপ্রাণ ক্রেতারা কুরআন শরীফ, বাংলা অনুবাদ এবং ব্যাখ্যাসহ বিভিন্ন বই খুঁজে নেন। অনেকেই উপহার দেওয়ার জন্যও পবিত্র কিতাব ও অন্যান্য ধর্মীয় বই কিনে থাকেন। বইপাড়ার পরিবেশও এই সময় আলাদা রূপ নেয়।
কলেজ স্ট্রিটের লেনিন সরণিতে অবস্থিত একটি ইসলামি প্রকাশনা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমজান মাসে তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁদের মতে, এই মাস কুরআন নাজিলের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় মানুষ নতুন কুরআন শরীফ কিনতে আগ্রহী হন। পাশাপাশি বাংলা অনুবাদ, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা এবং তাফসিরভিত্তিক বইয়ের চাহিদাও বেশি থাকে। যারা আরবি পড়তে পারেন না, তারা উচ্চারণসহ অনুবাদ করা কুরআন সংগ্রহ করছেন, যাতে সহজে পড়তে ও বুঝতে পারেন।
রমজান নিয়ে লেখা বিভিন্ন বইও এই সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রোজার নিয়ম-কানুন, করণীয়, মাসায়েল এবং পরিকল্পনা বিষয়ক বই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেক তরুণ পাঠক রমজানকে সঠিকভাবে পালন করার নির্দেশনা পেতে এসব বই সংগ্রহ করছেন। এছাড়া নবী (সা.) ও সাহাবাদের জীবনী নিয়ে লেখা গ্রন্থও ভালো বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, কলেজ স্ট্রিটের কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের বিক্রি সব জায়গায় সমান নয়। কিছু দোকানে কুরআন ও ইসলামি বইয়ের বিক্রি বেড়েছে, তবে যেসব দোকানে মূলত পাঠ্যসূচিভিত্তিক বই বেশি থাকে, সেখানে রমজান মাসে তেমন পরিবর্তন দেখা যায় না। প্রকাশকদের মতে, বাজারের ধরন ও পাঠকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বিক্রির পার্থক্য তৈরি হয়।
কয়েকজন প্রকাশক জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর কোথাও বিক্রি কিছুটা কম হলেও আবার কোথাও বেড়েছে। তাঁদের ধারণা, বইমেলা এবং অনলাইনে বই কেনার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে কিছু ক্রেতা সরাসরি দোকানে কম আসছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয় পড়ছেন। ফলে কাগজের বইয়ের বিক্রিতে কিছু প্রভাব পড়ছে।
তবুও রমজান মাসে কুরআন শরীফের বিক্রি সবসময়ই শীর্ষে থাকে। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, সহজ ভাষার অনুবাদ এবং তাফসির বইয়ের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। কেউ কেউ নতুন বই প্রকাশ করেছেন, যেগুলো পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ডেলিভারির ব্যবস্থা রেখেছে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বই সংগ্রহ করতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি জ্ঞান অর্জনের সময়ও। এই মাসে মানুষ নিজেদের উন্নত করার চেষ্টা করেন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন সাজাতে চান। তাই ধর্মীয় বই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হয়ে ওঠে। বইয়ের দোকানগুলোও সেই চাহিদা পূরণে প্রস্তুত থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রমজান মাস এলে কলেজ স্ট্রিটে ইসলামি বইয়ের বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। পাঠক ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই এক ধরনের ব্যস্ততা তৈরি হয়। ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনের এই আগ্রহ রমজানের পরিবেশকে আরও অর্থবহ করে তোলে।


