
মোহালি আদালত ২০১৮ সালের একটি যৌন হয়রানির মামলায় পাঞ্জাবের বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক বাজিন্দর সিং-এর দোষ প্রমাণ করেছে। গত ১৯ মার্চ শুনানির পর বিচারক রায়ে তাঁর পাঁচ সহ-অভিযুক্তকে খালাস দিলেও সিং-কে দোষী ঘোষণা করেন। শাস্তি নির্ধারণ করা হবে ১ এপ্রিল।
জিরাকপুরের এক নারী অভিযোগ করেন, চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৬৩-এ সিং-এর বাসভবনে তিনি তাঁকে যৌন নিপীড়নের শিকার করেন এবং ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের হুমকি দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু হয়। ২০২০ সালে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইটে ওঠার সময় গ্রেপ্তার হন সিং। তাঁর সমর্থকরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করে।

এই রায়ের মধ্যেই নতুন করে একাধিক অভিযোগে জড়িয়েছেন সিং। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা গেছে তিনি তার অফিসে একজন পুরুষ এবং একজন নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন। এই ভিডিও দেখে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, তার চার্চের একজন প্রাক্তন কর্মচারী জানিয়েছেন যে সিং মহিলা স্বেচ্ছাসেবকদের পিছনে লেগে তাদের হয়রানি করতেন এবং যেসব নারী তার বিরুদ্ধে কথা বলতেন, তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। ওই কর্মচারী আরও বলেন, বছরের পর বছর কাজ করার পর এই ভিডিও দেখে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।চলতি মাসের শুরুতেই কাপুরথালার এক ২২ বছর বয়সী নারী সিংয়ের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, পিছু নেওয়া এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ এনেছেন। তবে সিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এগুলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী এক পাস্তার ষড়যন্ত্রের ফল।

২০১৮ সালের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং একের পর এক নতুন অভিযোগ বাজিন্দর সিংকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তার আচরণ এবং তার ধর্মীয় কার্যক্রমে জড়িত মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। আদালতের এই রায় তার সম্প্রদায়ের মধ্যে ধাক্কা দিয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে, এবং এগুলো বাজিন্দর সিংয়ের কাজকর্মের উপর আরও নজরদারি বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১ লা এপ্রিল শাস্তি ঘোষণার সাথে সাথে এই মামলাটি পাঞ্জাব রাজ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। সমাজে ধর্মীয় নেতাদের এই ঘটনা নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।