হুগলির শেওড়াফুলি রেলস্টেশনকে সম্প্রতি ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এই কাজকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, উন্নয়নের নাম করে স্টেশন চত্বরের বহু পুরনো গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে এবং পাশাপাশি হকারদেরও সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি বড় সমস্যায় পড়েছেন অটোরিকশা চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। শেওড়াফুলি স্টেশনের রিজার্ভেশন অফিসের সামনে যে অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল, সেটিও সম্প্রতি তুলে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এই স্ট্যান্ড থেকেই প্রতিদিন বহু মানুষ পিয়ারাপুর এবং শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অটো পেতেন। কম খরচে এবং সহজে সেখানে পৌঁছনোর সুবিধা ছিল। কিন্তু স্ট্যান্ড তুলে দেওয়ার পর সেই সুযোগ আর থাকছে না।
ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন হাসপাতালমুখী রোগীরা। শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে আসেন বহু মানুষ। কিডনির সমস্যার কারণে তাদের বেশি হাঁটা-চলা করা সম্ভব নয়। আগে স্টেশন থেকে সরাসরি অটো পেয়ে তারা হাসপাতালে পৌঁছে যেতেন। এখন সেই ব্যবস্থা না থাকায় তাদের রাস্তায় বেরিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শুধু রোগীরাই নন, বাইরে থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষ বা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিবারের সদস্যরাও সমস্যায় পড়ছেন। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, কিছু টোটোচালক অসহায় রোগীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে অটোরিকশা চালকদেরও জীবিকা সংকটে পড়তে হয়েছে। স্থানীয় অটোচালক বিল্টু শিকদার জানান, ২০১০ সাল থেকে তারা এই রুটে অটো চালাচ্ছেন। তার কথায়, শুধু আয়-রোজগারের জন্যই নয়, এলাকার মানুষের প্রয়োজনে তারা কাজ করেন। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ এবং হাসপাতালের কর্মীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে তাঁরা সবসময় চেষ্টা করেন।
এই পরিস্থিতিতে শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সহ-সম্পাদক গৌতম সরকার পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে অটো স্ট্যান্ডটি আবার চালু করার আবেদন জানিয়েছেন। একই চিঠির অনুলিপি শেওড়াফুলি স্টেশন ম্যানেজার, চাঁপদানি বিধানসভার বিধায়ক এবং বৈদ্যবাটি পুরসভার প্রধানকেও দেওয়া হয়েছে।


