
শুক্রবার উত্তর প্রদেশের সম্ভল এলাকায় শাহী জামা মসজিদে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যেমন হবন ও পূজা, করার চেষ্টাকালে তিন ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনাটি একটি বিতর্কিত স্থানের কাছে ঘটেছে, যেখানে শুক্রবারের নামাজের জন্য আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল।
পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই জানান, ওই তিনজন একটি গাড়িতে করে এসেছিলেন এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সম্ভলে পুনরায় প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই পদক্ষেপ এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
আটক হওয়া তিনজনের একজন, সনাতন সিং, বলেন, তারা বিষ্ণু হরিহর মন্দিরে হবন ও যজ্ঞের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “সেখানে নামাজ পড়া যায়, কিন্তু আমরা পূজা করতে পারব না কেন?”
অপর একজন, বীর সিং যাদব, জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল সম্ভলের মসজিদে ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম সম্পন্ন করা। তৃতীয় ব্যক্তি, অনিল সিং, বলেন, তারা হরিহর মন্দিরে হবনের জন্য এসেছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

সম্ভলের মোহল্লা কোট, গারভিতে ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। গত বছর ২৪ নভেম্বর এখানে হিংসায় চারজন প্রাণ হারান এবং অনেকে আহত হন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মীরাও ছিলেন। এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শাহী জামা মসজিদে আদালতের নির্দেশে একটি জরিপের পর, যখন দাবি ওঠে যে মসজিদটি একটি ভেঙে ফেলা হিন্দু মন্দিরের জায়গায় নির্মিত। তখন থেকে এলাকায় সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তি বিঘ্নিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সম্ভলের পরিস্থিতি এখনও স্পর্শকাতর, এবং অতিরিক্ত অশান্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।