কলকাতায় আবারও রাস্তায় নামলেন আনএইডেড মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার তাঁরা প্রতীকীভাবে থালা হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে নবান্নের উদ্দেশে মিছিল করেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজ্যের ২৩৫টি বেসরকারি মাদ্রাসা এখনও সরকারি সাহায্যের বাইরে রয়েছে। ফলে সেখানে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীরা অনেক সরকারি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, সল্টলেকের সিটি সেন্টার ওয়ান মেট্রো কারশেডের কাছে গত প্রায় ৮৫ দিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। রমজান মাসে তাঁরা রাস্তাতেই ইফতার করছেন। টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সেই কর্মসূচিও চলছে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, সব আনএইডেড মাদ্রাসাকে দ্রুত সরকারি অনুদানের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিলসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধাও চালু করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো চালুর দাবিও তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকদের ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা, স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ২২ হাজার, স্নাতক শিক্ষকদের ২০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া উচিত। এছাড়া গ্রুপ সি কর্মীদের ১২ হাজার এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের ১০ হাজার টাকা করে বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ী করা এবং অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থাও চালু করার দাবি তুলেছেন শিক্ষকরা।
বুধবার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচশোর বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা মিছিল শুরু করেন। কিন্তু নিউ মার্কেট এলাকার কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। মিছিলের সময় কয়েকজন শিক্ষক রোজা রাখার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে শিক্ষকরা সেখানেই বসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান শুরু করেন। রাস্তাতেই ইফতার ও নামাজ পড়তে দেখা যায় তাঁদের। আন্দোলনকারীদের সংগঠনের সম্পাদক পলাশ রম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা বোর্ড ঘেরাও করা হবে। দুই দিনের মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত না নিলে আবারও নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।


