Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করে অব্যাহত ইরানের পাল্টায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির জন্য ইরান সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের দায়ী করেছে। তেহরানের মতে, বর্তমান সংঘাত কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়; বরং দেশের স্বাধীনতা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

ইরানের সরকারি মহলের দাবি, বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ইরানকে ভেঙে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করার একটি পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। তেহরানের মতে, নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামরিক হুমকির মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানান, কূটনৈতিক আলোচনা চলতে থাকলেও একই সময় সামরিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তার কথায়, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের সার্বভৌম অবস্থানকে দুর্বল করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরানি সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানো হচ্ছিল। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের চাপ ও উসকানির জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা বাপকো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের একটি তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। এর ফলে তেল সরবরাহের কাজও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের শাইবাহ তেলক্ষেত্রের দিকেও ড্রোন হামলার চেষ্টা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ শুরু করতে চায় না। তবে দেশের ওপর হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক বার্তাও দিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

অগ্নিনিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার কড়া নোটিস দমকলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

Related Articles

Popular Categories