পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বৃহস্পতিবার এই অবস্থান কর্মসূচি ৮৬ দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাঁদের সমস্যার প্রতি কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিশেষ করে রমজান মাসে রোজা রেখে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হওয়ায় তাঁদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রেকগনাইজড আনএইডেড মাদ্রাসা ঐক্যমঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। আবার অনেকেই মাসে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পান, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান শুরু করেছেন। এই সময়ের মধ্যে বিকাশ ভবন, নবান্ন এবং কালীঘাট অভিযানের মতো একাধিক কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা পর্ষদ ঘেরাও করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানেই বিকেল পর্যন্ত বসে থাকেন। সন্ধ্যায় রোজা ভাঙার সময় শিক্ষকরা রাস্তাতেই ইফতার করেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা সল্টলেক মেট্রো স্টেশনের কাছে নিজেদের অবস্থান মঞ্চে ফিরে যান।
আন্দোলনকারীদের দাবি, কয়েক বছর আগে রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে খুব অল্প সংখ্যক প্রতিষ্ঠান সেই স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বীকৃতি পেলেও অনেক মাদ্রাসা এখনও সরকারি অনুদান বা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে ছাত্রছাত্রীরাও বই, খাতা বা অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে আন্দোলনের সময় বৃষ্টি ও রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওভাবে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। পর্যাপ্ত শৌচাগারের সুবিধাও নেই। তবু অসুস্থ হয়ে পড়লেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মূল দাবি, মাদ্রাসাগুলিকে সম্পূর্ণ অনুদানপ্রাপ্ত করা এবং শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা।


