পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ও তেলের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার সংসদ ভবনে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান। সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে কঠোর মন্তব্য করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অবস্থায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
এই পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাবও ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে। সোমবার মুম্বই শেয়ারবাজারে বড় পতন লক্ষ্য করা যায়। বিএসসি সেনসেক্স সূচক একদিনে প্রায় ১৩৫০ পয়েন্ট নেমে যায়। পাশাপাশি Nifty 50 সূচকও ২৪০৫০-এর নিচে নেমে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গত কয়েক দিনে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস —দু’ধরনের তেলের দামই ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের বেশি হয়ে গেছে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা পেরিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে দাম আরও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়লে ভারতের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। কারণ দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সংস্থাগুলিও সতর্ক করেছে যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির ওপর চাপ বাড়বে।
এদিকে তেল সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে শিল্পোন্নত দেশগুলির জোট গ্রুপ অফ সেভেন–এর অর্থমন্ত্রীরাও বৈঠকে বসেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেস সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সতর্ক রয়েছে দিল্লি।


