
কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে যে, মে ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৩৮টি বিদেশ সফরে প্রায় ₹২৫৮ কোটি ব্যয় হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০২৩ সালের জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের খরচ ছিল সর্বাধিক, যা ₹২২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিটা এই তথ্য জানান।

বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের জন্য ভারতীয় দূতাবাসগুলোর করা ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। প্রশ্নের উত্তরে সরকার হোটেল খরচ, কমিউনিটি সংবর্ধনা, পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ সমস্ত খরচের হিসাব প্রদান করে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই খরচের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরসঙ্গী, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি দলের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের খরচ ছিল ₹২২,৮৯,৬৮,৫০৯, আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন সফরে ব্যয় হয়েছিল ₹১৫,৩৩,৭৬,৩৪৮।

অন্যান্য ব্যয়বহুল সফরের মধ্যে রয়েছে—
- মে ২০২৩-এ জাপান সফর: ₹১৭,১৯,৩৩,৩৫৬
- মে ২০২২-এ নেপাল সফর: ₹৮০,০১,৪৮৩
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর করা দেশগুলির মধ্যে রয়েছে— জার্মানি, কুয়েত, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, গ্রিস, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, রাশিয়া, ইতালি, ব্রাজিল এবং গায়ানা।
কিছু ব্যয়বহুল সফরের খরচ—
- পোল্যান্ড: ₹১০,১০,১৮,৬৮৬
- ইউক্রেন: ₹২,৫২,০১,১৬৯
- রাশিয়া: ₹৫,৩৪,৭১,৭২৬
- ইতালি: ₹১৪,৩৬,৫৫,২৮৯
- ব্রাজিল: ₹৫,৫১,৮৬,৫৯২
- গায়ানা: ₹৫,৪৫,৯১,৪৯৫
মোট ৩৮টি সফরের খরচ (মে ২০২২ – ডিসেম্বর ২০২৪): প্রায় ₹২৫৮ কোটি।

প্রসঙ্গত, পূর্ববর্তী সফরের ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিময় হারের পরিবর্তনগুলোর হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে, রাজনৈতিক মহলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়কে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, যেখানে ভারতে এখনও কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের জ্বালায় আম আদমিকে চোখের জল ফেলতে হয়, সেখানে ২৫৮ কোটি টাকায় কী কী হতে পারত?