ভোটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে চলা বিতর্কে নতুন করে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেসের দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জ্ঞানেশের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তবে রাহুলের এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ তিনি সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সাংবাদিকদের সামনে রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমার এখন ভয়ের মধ্যে রয়েছেন এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিজেও ওই সাংবাদিক বৈঠক দেখছেন। জ্ঞানেশের উদ্দেশে রাহুল বলেন, তিনি যেন পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং রাজসাক্ষী হয়ে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। রাহুলের মতে, এর মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন নির্বাচন কমিশনার।
রাহুল আরও বলেন, এই ঘটনায় জ্ঞানেশ কুমার একা দায়ী নন। তাঁর দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের প্রভাব থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির নাম উল্লেখ করে রাহুল অভিযোগ করেন, তাঁরা জ্ঞানেশের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই বিবরণে পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, দেশের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করা জরুরি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ চলবে বলে জানান তিনি। এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষকেও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন রাহুল।
এ দিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। পাশাপাশি, দেশের প্রায় অর্ধেক পুলিশ আধিকারিক বিরোধীদের প্রতিবাদকে সমর্থন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাহুলের এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান যে আরও কঠোর হচ্ছে, তাঁর বক্তব্যে তা স্পষ্ট। তবে রাহুলের তোলা অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া এই বিতর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

