রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় বদল আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ এবং দলের অন্যতম মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পর দল এখন বিরোধী আসনে বসতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।
অভিষেকের রাজনৈতিক উত্থান মূলত তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। ২০১১ সালের পরে ধাপে ধাপে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন। যুব সংগঠনের দায়িত্ব থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের পদ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে তিনি লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর দলের ভিতরে তাঁর গুরুত্ব আরও দৃঢ় হয়। পরবর্তীতে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণের বড় অংশও তাঁর হাতে চলে আসে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ক্ষমতা হারানোর পর দলের ভিতরে আত্মসমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সংগঠনে যে পরিবর্তনের চেষ্টা অভিষেক করেছিলেন, তা আরও আগে শুরু হলে ফল ভিন্ন হতে পারত। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নতুন মুখ তুলে আনার উদ্যোগ—এসবেই তাঁর ছাপ ছিল, কিন্তু সময়টা হয়তো যথেষ্ট ছিল না।
অভিষেক বরাবরই দলকে আধুনিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। পুরনো ধাঁচের রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও এই নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতভেদও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বড় সঙ্কটে সেই দূরত্ব কমে এসেছে।
সাম্প্রতিক ফল প্রকাশের পর অভিষেককে কিছুটা চাপে দেখা গেছে। বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হওয়ায় তাঁকে সরে যেতে হয়। এরপর তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।এখন সকলের নজর রয়েছে দলের পরবর্তী কৌশলের দিকে। শোনা যাচ্ছে, ৫ই মে বিকেল বেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাবেন।


