দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। একই ঘটনায় দলের আর এক নেতা অজিঙ্ক সিন্ধেকেও আটক করেছে পুলিশ। তিনজনের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে তিন নেতাকে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকার একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে তাঁরা পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরে ঢোকেন। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা।
দিল্লি পুলিশের দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এর আগেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁদের ৫০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, এক বছরের মধ্যে শান্তি নষ্ট হতে পারে এমন কোনও কাজে যুক্ত না থাকার লিখিত প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তাঁরা। পুলিশের অভিযোগ, নতুন করে বিক্ষোভ দেখিয়ে দুই নেতা সেই শর্ত ভেঙেছেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগও আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং সমাজমাধ্যমে জানান, ঘটনার পর তিন নেতাকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, বন্ডের শর্ত ভাঙা এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, গভীর রাত পর্যন্ত নেতাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। রাত প্রায় তিনটের সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাঁদের থানায় আনা হয় বলে তিনি জানান। পুলিশের এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন দিল্লিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা আরও বাড়িয়েছে পুলিশ।
গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও সভার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। সেই তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলের বক্তব্য, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রতিবাদ সরিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের কথা পৌঁছনো কঠিন হবে। ফলে আন্দোলনের প্রভাবও কমে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের অনুমতি, পুলিশের পদক্ষেপ এবং নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে পুলিশের অভিযোগ ও দলের বক্তব্য—দুই পক্ষের অবস্থানই এখন এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে।


