সরকারি গাছ লাগানোর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশের বুধনি বিধানসভা এলাকার কোসিমি গ্রামে আদিবাসী পরিবারগুলির ১২টি ঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রবিবার বুলডোজার দিয়ে ঘরগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জমিতে থাকা ফসলও নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী তথা মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। নিজের লোকসভা এলাকার এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সোমবার সকালে কোসিমি গ্রামে পৌঁছন শিবরাজ। তাঁকে সামনে পেয়ে বহু মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা নিজেদের ঘর হারানোর কথা জানান এবং সমস্যার সমাধানের আবেদন করেন। গ্রামবাসীদের সঙ্গে বসেই শিবরাজ রাজ্যের মুখ্যসচিব অশোক বারনওয়ালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
শিবরাজের অভিযোগ, তাঁর লোকসভা এলাকার মানুষের সঙ্গে অবহেলা ও অন্যায় করা হয়েছে। এই ঘটনায় যাঁরা আদিবাসীদের ঘর ভেঙেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের বনদপ্তরের বক্তব্য, ওই এলাকায় আগে সরকারি উদ্যোগে গাছ লাগানো হয়েছিল। পরে কয়েকটি পরিবার সেই গাছ কেটে সেখানে কুঁড়েঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করে। সরকারি জমি থেকে সেই দখল সরাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।
তবে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে আদিবাসী পরিবারগুলির ঘরবাড়ি ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন বা তাঁদের ভবিষ্যৎ থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা উমং সিংঘার অভিযোগ করেছেন, বিজেপির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। তাঁর কটাক্ষ, শিবরাজ সিং চৌহান ও মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আদিবাসীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শিবরাজ সিং চৌহান দীর্ঘদিন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হলেও রাজ্যের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। নিজের এলাকায় আদিবাসীদের ঘর ভাঙার ঘটনায় তাঁর হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি কীভাবে ঘরবাড়ি ফিরে পাবেন এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

