ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর বিরুদ্ধে কলকাতায় আয়োজিত গণকনভেনশনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। বুধবার নাগরিক মঞ্চ, পশ্চিমবঙ্গের উদ্যোগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সংস্কৃতি ও গবেষণা কেন্দ্রের খোলা মাঠে এই কর্মসূচি হয়। প্রেক্ষাগৃহ না পাওয়ায় খোলা জায়গায় সভার আয়োজন করতে হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানান।
কনভেনশনে সরাসরি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও প্রকাশ রাজ ও অশোক লাভাসা ভিডিওবার্তার মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সভার আহ্বায়ক ছিলেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক জহর সরকার এবং আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অশোকনাথ বসু, প্রাক্তন আইএএস অনীতা অগ্নিহোত্রী এবং সাংবাদিক অপর্ণা ভট্টাচার্য।
ভিডিওবার্তায় প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্রের তরফে যেভাবে সমর্থন করা হচ্ছে, তা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের একসঙ্গে এগিয়ে আসা জরুরি।
প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসাও নিজের বক্তব্যে ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার সুরক্ষিত রাখাই নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে নিজেদের অধিকার নিয়ে চিন্তিত হতে হচ্ছে। এই বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কনভেনশনে বক্তারা SIR প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনেক মানুষকে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, এই কর্মসূচির আগে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কাছে চণ্ডীপাঠের আয়োজন করে এনডিএ-র শরিক রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (আটাওয়ালে)। স্থানীয়দের দাবি, স্কুল চলাকালীনও ওই অনুষ্ঠান চলেছিল। সিপিএমের রাজ্য দপ্তরের গেটেও কয়েকটি ফ্লেক্স লাগানো হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, চণ্ডীপাঠ হলে তা নিয়মিত হওয়া উচিত।
SIR নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি কলকাতার এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

