সাংসদদের এলাকার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে টাকা বরাদ্দ করে, তার বড় অংশই এখনও খরচ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, টাকা বরাদ্দ হলেও তা সময়মতো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আগেও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব পরীক্ষক (ক্যাগ)।এই পরিস্থিতিতে সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্র। এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে, নাকি নিয়মকানুন বদলে আরও কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক সাংসদ বছরে পাঁচ কোটি টাকা করে পান এলাকার উন্নয়নের জন্য। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের জন্য প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন স্থানীয় উন্নয়নের কাজ করা যায়। তবে কোন প্রকল্পে টাকা খরচ হবে, তা ঠিক করেন সাংসদরা। অন্যদিকে, জেলাশাসক ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেই কাজ বাস্তবায়িত হয়।কিন্তু নতুন লোকসভা গঠনের পর থেকে বরাদ্দ করা অর্থ খরচের হার বেশ কম। হিসাব বলছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে নির্বাচিত সাংসদদের জন্য বরাদ্দ টাকার মাত্র ৩৪ শতাংশ খরচ হয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে এই হার ৩০ শতাংশেরও নিচে। সেই তালিকায় রয়েছে গুজরাত, কর্নাটক, ওড়িশা, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে খরচের পরিমাণ মাত্র ২২ শতাংশ। দিল্লিতে সাতজন লোকসভা সাংসদ থাকা সত্ত্বেও সেখানে বরাদ্দ অর্থের মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে।এই সমস্যার পিছনে প্রশাসনিক জটিলতা ও কাজের দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করছেন সাংসদদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রকল্পের অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে ইচ্ছা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয় না।এ ছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী সাংসদদের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রথমবার সংসদে এসেছেন। তাঁদের অনেকেই এখনও প্রকল্প তৈরির নিয়ম ও প্রশাসনিক পদ্ধতির সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত নন। তাই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়ম সহজ করা এবং প্রশাসনিক বাধা কমানো গেলে এই অর্থ দ্রুত সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।
Popular Categories


