ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ডিনামিক্স লিমিটেডের (বিডিএল) একটি বরাতকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতার সুযোগ রাখা হয়নি। বরাত পাওয়া সংস্থাটির সঙ্গে বিডিএলের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক সিদ্ধার্থ মিশ্র ও তাঁর পরিবারের যোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত তিন বছরের প্রচলিত নিয়ম থেকে সরে এসে এবার একটি বেসরকারি সংস্থাকে ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অপটিক্যাল সাইট’ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই এই কাজের বরাত পেয়েছে সিদ্ধার্থ মিশ্র ও তাঁর স্ত্রী সম্ভাবী মিশ্রের তৈরি সংস্থা।সিদ্ধার্থ মিশ্র হায়দরাবাদের প্রতিরক্ষা সংস্থা বিডিএলে প্রায় চার বছর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তিনি অবসর নেন। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে স্ত্রী সম্ভাবীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঐন্দ্রী ডিফেন্স অ্যাডভাইজরি প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংস্থার ৯৫ শতাংশ মালিকানা সম্ভাবী মিশ্রের হাতে রয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বিডিএল ৩০০টি অপটিক্যাল সাইট সরবরাহের জন্য একটি দরপত্র প্রকাশ করে। সেখানে জরুরি প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে একটিমাত্র সংস্থার কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া হয়। ফলে অন্য সংস্থাগুলি নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে কী ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।অপটিক্যাল সাইট অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রকে সঠিক দিকে পরিচালিত করার কাজে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই যন্ত্রাংশের সরবরাহে কোনও প্রতিযোগিতা ছাড়াই বরাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।পুরো ঘটনায় স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিদ্ধার্থ মিশ্র ও তাঁর স্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তাঁদের সংস্থার ইমেলেরও জবাব মেলেনি। বিডিএলের তরফ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বরাত দেওয়ার প্রক্রিয়া, জরুরি পরিস্থিতির কারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের বরাত প্রাক্তন চেয়ারম্যানের পারিবারিক সংস্থাকে, বিডিএলকে ঘিরে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন
Popular Categories


