উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা—এই চার জেলাতেই দলীয় কর্মী–সমর্থকদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। প্রার্থী বদলের দাবিতে কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও পদত্যাগ—সব মিলিয়ে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারে পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত। নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভ ছড়াতে শুরু করে। সোমবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এমনকি পরদিনও বিক্ষোভ থামেনি বলে জানা যায়। মাথায় কালো ফেট্টি বেঁধে কর্মী–সমর্থকরা পার্টি অফিসের সামনে বসে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, ঘোষিত প্রার্থী পরিতোষ দাসকে বদল করে এমন কাউকে টিকিট দিতে হবে যিনি দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ক্ষুব্ধ কর্মীরা জেলা নেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে বিষয়টি রাজ্য স্তরে জানানো হয়। এমনকি জেলা সভাপতিকেও কার্যালয়ের ভিতরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। সেখানে প্রার্থী বদল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের একাংশ। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখকে সরিয়ে নতুন একজনকে টিকিট দেওয়ায় অনেকেই অসন্তুষ্ট। জানা গিয়েছে , বিজেপি এবার বালুরঘাটের বিধায়ক ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অশোককুমার লাহিড়ীকে প্রার্থী করেনি। তাঁর পরিবর্তে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী বিদ্যুৎকুমার রায়কে। এর জেরে কয়েকজন কর্মী ও বুথ স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ, যিনি এতদিন দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁকে সরিয়ে নতুন মুখ আনা ঠিক হয়নি। যদিও নতুন প্রার্থী জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান হবে।উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘিতেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এখানে ঘোষিত প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাসকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাঁদের অভিযোগ, ওই প্রার্থী এলাকায় খুব একটা পরিচিত নন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও কম। ফলে তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এমন কাউকে প্রার্থী করা হোক যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করেছেন। তবে জেলা নেতৃত্ব এই অসন্তোষ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, দলের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে লড়বে।মালদাতেও প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জেলার কয়েকটি আসনে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। বিভিন্ন নেতা নিজেদের সমর্থকদের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও আবার প্রার্থী বদলের দাবিতে কর্মীরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছেন। বিশেষ করে গাজোল ও মালদা কেন্দ্রকে ঘিরে অসন্তোষ বেশি।সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের এই চার জেলায় প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে বিভাজনের ছবি স্পষ্ট। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাইছে না। তাঁদের মতে, এই ধরনের ক্ষোভ সাময়িক এবং খুব শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি দলের সংগঠনের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে।
উত্তরবঙ্গে প্রার্থী ঘোষণার পর বিজেপির অন্দরে ফাটল, ৪ জেলায় বিক্ষোভে সরব গেরুয়া শিবিরের একাংশ !
Popular Categories

