উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলায় এক দলিত পরিবারের উপর নৃশংস হামলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ঘটনার কয়েকদিন পরেও পুলিশ মামলা দায়ের না করায় ওই পরিবার প্রকাশ্যে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর নথিভুক্ত না হলে তারা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। পরিবারটির অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ মার্চ একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তারা। সেই সময় প্রভাবশালী আওয়াস্থি পরিবারের প্রায় ৪০ জন লোক তাঁদের জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ওই পরিবারটির সঙ্গে বজরং দলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তাঁদের একটি ঘরের ভিতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, তাঁদের উদ্দেশ্যে বারবার জাতিবিদ্বেষী গালিগালাজ করা হয়। পরিবারের এক মহিলাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে পায়ে পিষে দেওয়ার মতো অমানবিক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি অপমান করার জন্য পরিবারের এক ছেলের গায়ে প্রস্রাব করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবারটির বক্তব্য, ঘটনার পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। দুই দিন আগে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এফআইআর নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা জানিয়েছে। এই অবস্থায় রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং সমাজ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভীম আর্মি। সংগঠনের রাজ্য সমন্বয়ক ডা. কুলদীপ ভার্গব এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপক জাটভ অভিযোগ করেছেন, টিকুনিয়া থানার ওসি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে ভুক্তভোগী পরিবারকে সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে বজরং দলের যোগ থাকার কারণেই পুলিশ নরম মনোভাব দেখাচ্ছে।
ভীম আর্মি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দ্রুত মামলা দায়ের না হলে তারা আন্দোলনে নামবে। প্রয়োজনে পুলিশ সুপারের দফতর পর্যন্ত মিছিল করা হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এসসি/এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি ওই পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এদিকে বাড়তে থাকা চাপের মুখে খেরি জেলার পুলিশ জানিয়েছে, টিকুনিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে কি না বা কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দেশে দলিতদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা জাতিগত সহিংসতার বিষয়টি সামনে এসেছে। সমাজের নীচু শ্রেণির মানুষের উপর এ ধরনের অত্যাচার এখনও যে বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে, এই ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


