উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি জেলায় ফতেহপুর এলাকায় হরিওম বাল্মীকি নামক ৩৮ বছরের এক দলিত যুবককে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে খুন করায় ছড়ায় উত্তেজনা। অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত গেরুয়া দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডে ঘটিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় ওই দুষ্কৃতীরা নিজেদের ‘যোগীবাবার লোক’ বলে দাবি করছিল, এমনকি তারা কাউকে তোয়াক্কা করে না বলেও জানায়। জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় গুজব ছড়ায় ‘ড্রোন-চোর’দের মাধ্যমে লোকের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। সেই গুজবের জেরেই হরিওমকে ‘চোর’ বলে দাগিয়ে কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে রড, বেল্ট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে পুরো হামলার দৃশ্য ধরা পড়ে।
২ অক্টোবর উঞ্ছাহার এলাকার রেললাইনের পাশে মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তে পাঠানোর পর ভিডিও দেখে পুলিশ ৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং এফআইআর দায়ের করে। পুলিশের ডিজিপি রাজীব কৃষ্ণা জানিয়েছেন, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এক সাব-ইন্সপেক্টর সহ তিন পুলিশ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জীব কুমার সিনহা জানিয়েছেন, ভুলবশত চোর ভেবে কিছু মানুষ ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত।
অন্যদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি নিহতের পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “যোগী সরকারের অধীনে উত্তরপ্রদেশ এখন জঙ্গল রাজে পরিণত হয়েছে। পুলিশের সামনেই মানুষ পেটানো হচ্ছে, আর অপরাধীরা ‘বাবার লোক’ বলে বুক ফুলিয়ে ঘুরছে।” কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে.সি. বেণুগোপালও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “যোগী আদিত্যনাথের শাসনে দলিত ও সংখ্যালঘুদের জন্য উত্তরপ্রদেশ এখন এক ভয়ঙ্কর জায়গায় পরিণত হয়েছে।”


