
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশী ধরে চলা এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৬ হাজারেরও বেশি সাধারণ নিরস্ত্র নাগরিক প্রাণ হারান, যার মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি শিশু। এক লাখের অধিক মানুষ আহত হন। গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সম্প্রতি উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় গবেষক রঞ্জনী শ্রীনিবাসন। আর্বান প্ল্যানিং বিষয়ে গবেষণার জন্য এফ-১ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। গত ৫ মার্চ মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার ভিসা বাতিল করে এ অভিযোগে যে, তিনি ফিলিস্তিনি সমর্থনের আড়ালে হামাসের মতো সংগঠনকে সহায়তা করছেন। এরপরই তিনি কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) অ্যাপের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন।
জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ফিলিস্তিন ইস্যুতে সমর্থনকে হামাসের পক্ষাবলম্বন হিসাবে চিহ্নিত করে কঠোর অবস্থান নেয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নয়েমের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টেও এই নীতির প্রতিফলন দেখা গেছে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ছাত্র-শিক্ষকরা গণপ্রতিবাদ, সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ মিছিলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মার্কিন পুলিশ এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৪০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। একইসঙ্গে, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহমুদ খলিল ও লিকা করদিয়া নামে দুই ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভ দমনে সরকারি নিপীড়ন ও অভিযানের সমালোচনা করতে গিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। ফিলিস্তিনি জনগণের সংকট ও বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে রঞ্জনীসহ বহু মানুষের ত্যাগের মধ্য দিয়ে।