হরিদ্বারের গুরুকুল কাঙ্গরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গত ২৬ জুন ২২ বছরের এক মুসলিম যুবক মুঈবের উপর দশজনের একটি দল নির্মমভাবে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুধুমাত্র তার ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য তাকে লক্ষ্য করা হয়। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে তাকে এমনভাবে মারধর করে যে, তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পথচারীরা তাকে দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তার অবস্থা দেখে পরিবার তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তবে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
স্থানীয় কর্মীদের সাহায্যে মুঈবের পরিবার কাঙ্খাল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে। পুলিশ পবন নামে একজনকে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্থানীয় কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ এ ধরনের হামলার শিকারদের ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পরিবার ও সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বাড়তে থাকা আক্রমণের একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঈবের পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তারা বলছেন, তাদের ছেলে নির্দোষ এবং শুধুমাত্র তার ধর্মের কারণে এই নৃশংসতার শিকার হয়েছে। স্থানীয়রা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, এখনও কোনো ফলাফল মেলেনি। এই ঘটনা সমাজে সহনশীলতার অভাব ও গভীর বিভেদের ছবি তুলে ধরছে।


