ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ মিসাইল হামলার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সাম্প্রতিক একটি তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পর দাবি উঠেছে, ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর মিসাইল। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক মেয়েদের স্কুলে আচমকা মিসাইল আঘাত হানে। সেই সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে ভবনের একটি বড় অংশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বহু ছাত্রী ও শিক্ষিকা। ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ছোট ছোট ছাত্রী।
পরে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল। তদন্তে উঠে এসেছে, আসলে লক্ষ্য ছিল স্কুলের পাশেই থাকা একটি সামরিক স্থাপনা। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে মিসাইলটি নির্ধারিত জায়গার বদলে স্কুলের উপর গিয়ে পড়ে।
তদন্তকারীদের মতে, হামলার লক্ষ্য ঠিক করতে যে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল তা ছিল অনেকটাই পুরনো। সেই কারণেই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন এমন সংবেদনশীল অভিযানের আগে তথ্য যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে এই অভিযোগ মানতে নারাজ আমেরিকার প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ইরানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধের আবহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও নিরীহ নাগরিকরা। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশও মনে করছে, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, তার জন্য আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন।


