মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি-এর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এর পাশাপাশি গাজায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলা প্রতিশোধমূলক। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে এই হামলার প্রভাব পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হয়।
ইসরাইলি সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকায় হামলার ফলে দুইজন বৃদ্ধ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কয়েকজন আহত হন। একটি রেলস্টেশন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে তাদের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় অংশে যে হামলা চালানো হয়, সেখানে এমন ধরনের মিসাইল ব্যবহার করা হয় যা আকাশে ভেঙে একাধিক অংশে আঘাত হানতে পারে। রামাত গান এলাকায় এই হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
লারিজানির মৃত্যুকে ঘিরে নানা তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ছিলেন এবং প্রায়ই নিজের অবস্থান বদল করতেন। কিন্তু একসময় পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি শত্রুপক্ষের নজরে পড়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার কারণেই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি দেশের ভেতরের কিছু মানুষের জড়িত থাকার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে তেহরানে লারিজানি ও বাসিজ বাহিনীর প্রধান রামাত গান-এর শেষকৃত্যে বিপুল জনসমাগম দেখা যায়। সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান।
প্রতিদিন নতুন নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার খবর আসছে। এতে পুরো পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বর্তমানে ধ্বংস স্তুপের মাঝে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকরা খানিক হলেও আত্ম সন্তুষ্টি বোধ করছে।


