পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এবার এক ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রে লেখা একটি বার্তা সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি ইরানের সামরিক বাহিনী তেল আভিভের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেই ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে ইংরেজিতে লেখা ছিল— “এপস্টিন আইল্যান্ডের যারা পৈশাচিক অত্যাচার এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।” এই ছবিটি প্রকাশ করে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, কেন একটি ক্ষেপণাস্ত্রে এমন বার্তা লেখা হল।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে পুরনো বিতর্ক। কিছু বিশ্লেষক ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের দাবি, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এপস্টিন সংক্রান্ত নথি নিয়ে আলোচনাগুলি আড়ালে চলে যাচ্ছে। তাদের মতে, জানুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন বিচার দপ্তর কিছু নথি প্রকাশ করেছিল যেখানে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়। তবে যুদ্ধের কারণে সেই বিষয়টি নিয়ে এখন খুব বেশি আলোচনা হচ্ছে না।
কিছু সমালোচকের বক্তব্য, এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরে যাচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতি নাকি মার্কিন রাজনীতিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষেও সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ এতে ওই বিতর্কিত নথি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার গতি কমে যেতে পারে। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা নিয়ে স্পষ্ট কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।
জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন একজন ধনী ব্যবসায়ী এবং অর্থসাহায্যকারী, যার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগ ছিল। ২০০৮ সালে নাবালিকা জড়িত যৌন অপরাধের মামলায় তিনি প্রথম দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২০১৯ সালে আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নাবালিকাদের পাচারের অভিযোগে। তদন্ত চলাকালীন নিউ ইয়র্কের একটি জেলে তার মৃত্যু হয়। সরকারি রিপোর্টে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও তা নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলেছে।
এরই মধ্যে ইরানের আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৯ মার্চ ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রে লেখা ছিল— “আত ইয়োর সার্ভিস, সাইয়্যিদ মোজতবা।” এই বার্তাটি নতুন ইরানি নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইরানের ধর্মীয় পরিষদ এবং সামরিক নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।
তবে এই নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনিকে তুচ্ছ করে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। এই মন্তব্য ঘিরেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


