বুকস্টলে হামলার অভিযোগ এবং রেকর্ড বই বিক্রির দাবি—বামেদের দুই বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ২০২০ সালে কলকাতা বইমেলায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ‘সিলেক্টিভ’ প্রতিবাদের অভিযোগও করলেন তিনি।
দুর্গাপুজোর আবহে বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই ঘটনায় বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়ার পর এবার মুখ খুললেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বুকস্টলে হামলার অভিযোগের পাশাপাশি এ বছর রেকর্ড পরিমাণ বই বিক্রির দাবি করেছে বামেরা। আর এই দুই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই বামেদের নিশানা করলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী।
জগন্নাথের প্রশ্ন, একদিকে যদি বিভিন্ন জায়গায় বুকস্টলে হামলার অভিযোগ ওঠে, অন্যদিকে যদি রেকর্ড পরিমাণ বই বিক্রির দাবি করা হয়, তাহলে এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে? বামেদের এই অবস্থানকে কটাক্ষ করে তিনি অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গও সামনে আনেন।
২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বইমেলায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলে হামলার অভিযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই ঘটনায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-সহ হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ ও শ্রদ্ধার সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে বামেদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পৃষ্ঠপোষকতায় হামলা চালানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “যে বাম বুদ্ধিজীবী বা সমাজের যে অংশ বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে কাঁদছেন, আমি প্রত্যাশা করি যে তাঁরা একইভাবে সমস্বরে ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বইমেলার ভিতরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলের উপর যে আক্রমণ হয়েছিল, তার বই যে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, তারও সমালোচনা করবেন।”
এখানেই থেমে থাকেননি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। বামেদের বুকস্টলে হামলার ঘটনায় যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা দেখতে চাই যে এই বইপ্রেমী মানুষগুলি, তাঁরা কী প্রকৃত অর্থেই বইপ্রেমী? নাকি তাঁদের কণ্ঠস্বরেও সিলেক্টিভিটি আছে? তাঁরা একটি নির্দিষ্ট অংশের হলে কথা বলেন, অন্য অংশের হলে কথা বলেন না।”
অর্থাৎ, বই বা ধর্মীয় গ্রন্থের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বা আদর্শগত পক্ষপাত থাকা উচিত নয় বলেই বার্তা দিতে চেয়েছেন জগন্নাথ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “যে মত, যে ধর্ম, যে পথের হোক না কেন, বই প্রত্যেকের কাছে শ্রদ্ধার স্থানে আছে। তাই বইয়ের সম্মান আমাদের সকলেরই রক্ষা করা উচিত।”
সব মিলিয়ে, পুজোর বুকস্টল ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে অতীতের বইমেলার ঘটনাকে সামনে এনে বামেদের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। বইয়ের উপর হামলার প্রতিবাদে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে তিনি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন।
