মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট মঙ্গলবার হঠাৎই তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সুত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ইরানকে ঘিরে চলা সামরিক সংঘাতের বিরোধিতা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের পদত্যাগপত্রে কেন্ট স্পষ্টভাবে জানান, এই যুদ্ধকে তিনি নৈতিকভাবে সমর্থন করতে পারছেন না। তাঁর দাবি, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক বিপদ তৈরি করেনি। তবুও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির কারণে এই সংঘাত শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কেন্ট আরও অভিযোগ করেন, ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের মধ্যে যুদ্ধের স্বপক্ষে মত গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি আগে ইরাক যুদ্ধের সময়ও তৈরি হয়েছিল, যার ফল ভোগ করতে হয়েছে বহু মার্কিন পরিবারকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কেন্ট আগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন এবং তাঁর যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও যুদ্ধের গভীর প্রভাব পড়েছে। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় এক আত্মঘাতী হামলায় তাঁর স্ত্রী নিহত হন। এই ঘটনার পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং কংগ্রেস নির্বাচনে লড়েন, যদিও দু’বারই পরাজিত হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কও কম ছিল না। কিছু চরম ডানপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পাশাপাশি, সরকারি সংস্থাগুলিকে ঘিরে নানা বিতর্কিত মতও তিনি সমর্থন করেছিলেন, যা বিরোধীদের সমালোচনার কারণ হয়।
এদিকে, তাঁর পদত্যাগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি দেশের নিরাপত্তার জন্য দুর্বল। ট্রাম্পের মতে, ইরান একটি বড় হুমকি এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কেন্টের মত পোষণকারী ব্যক্তিদের প্রশাসনে রাখা ঠিক নয়। সব মিলিয়ে, এই পদত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশনীতি ও যুদ্ধের প্রশ্নে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


