কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। জানা গেছে, বিদেশ থেকে আনা অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল যন্ত্রের ভিতরে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এই দায়িত্বে থাকা একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই কারণে যন্ত্রগুলি বারবার বিকল হয়ে পড়ছে এবং চিকিৎসা পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের নজরে, যখন তারা যন্ত্র পরীক্ষা করছিলেন। পরে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
হাসপাতালের নিজস্ব তদন্তেও কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে খবর। এরপর পুরো বিষয়টি রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সংস্থাটি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেও রয়েছে। ফলে অন্য হাসপাতালেও একই ধরনের সমস্যা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ দুর্নীতির ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, এই হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির হদিস পাওয়া গেছিলো। অভিযোগ উঠেছে যে, রোগীরা ছুটি পাওয়ার পরেও তাঁদের কার্ড থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছিল। প্রায় ১০০ জনেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছিল।
দুর্নীতির অভিযোগ এখানেই থেমে থাকেনি। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির প্রাক্তন চেয়ারম্যান, এবং পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ডঃ সুদীপ্ত রায়-এর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্র ইউনিয়ন অধ্যক্ষের কাছে সিসিইউ (CCU), সেন্ট্রাল ল্যাব এবং বেড বণ্টন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে ল্যাবরেটরির কেনাকাটা এবং হাসপাতালের বেড বিক্রির অভিযোগে তোলপাড় হয়েছিল তৎকালীন রাজ্য রাজনীতি।
সামনেই আসন্ন ২৬ বিধানসভা নির্বাচন। নানান ইসুকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চূড়ান্ত অবনতি এবং বেলাকাম দুর্নীতি হওয়া সত্ত্বেও কেন বাকরুদ্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?


