মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন পুরসভায় সরকারি পণ্য কেনার হিসাব ঘিরে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও এক লিটার ফিনাইল কেনা হয়েছে মাত্র পাঁচ টাকায়, আবার অন্য জায়গায় একই ধরনের জীবাণুনাশকের দাম দেখানো হয়েছে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে, ৩০৬ টাকায় কেনা ৬০ ওয়াটের এলইডি আলোর দাম ভোপালে দেখানো হয়েছে ১১ হাজার ৮০০ টাকা। পণ্য কেনার ক্ষেত্রে এই বিপুল দামের ফারাক সামনে আসতেই সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছরে মধ্যপ্রদেশের ৩৭৪টি পুরসভা ও স্থানীয় পৌর সংস্থার কেনাকাটার হিসাব খতিয়ে দেখে এই অসঙ্গতিগুলি সামনে এসেছে। সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস বা জিইএম পোর্টালের মাধ্যমে এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১,১৩৪ কোটি টাকার পণ্য কেনা হয়েছে। আধিকারিকদের হিসাব অনুযায়ী, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেনাকাটা করা হলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব ছিল।সম্প্রতি সরকারি খরচে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে সরব হন মধ্যপ্রদেশের নগর প্রশাসন ও উন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে। কেনাকাটার বিভিন্ন হিসাব তুলে ধরে তিনি আধিকারিকদের সতর্ক করেন। ওই বৈঠকের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতেই পণ্যের দামের এমন অস্বাভাবিক পার্থক্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।এলইডি আলো কেনার হিসাবেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে একটি পুরসভা ৬০ ওয়াটের আলো কিনেছে ৩০৬ টাকায়, সেখানে ভোপালে একই ধরনের আলো কেনার জন্য ১১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এই খাতে মোট ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন একই ধরনের পণ্য কিনতে এত বেশি টাকা খরচ করা হল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও দামের ফারাক নজরে এসেছে। একটি পুরসভা যেখানে দু’লক্ষ টাকায় এমন গাড়ি কিনেছে, অন্য একটি পুরসভা চারটি ডাস্টবিন-সহ একই ধরনের গাড়ির জন্য ছ’লক্ষ টাকা খরচ করেছে। অতিরিক্ত সরঞ্জামের নাম করে দাম বাড়ানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।সঞ্জয় দুবের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে আবর্জনা সংগ্রহের টিপার ও ডাম্পার কিনতে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। পথবাতি কেনায় ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা, লোহার খুঁটি কিনতে ২৭ কোটি টাকা এবং জীবাণুনাশক কেনায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা।সঞ্জয় জানিয়েছেন, কোন পুরসভা কোথা থেকে পণ্য কিনছে, কী পরিমাণে কিনছে এবং কত টাকা খরচ করছে, তার হিসাব রাখা হচ্ছে। গত বছর কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও এ বার সরকারি কেনাকাটায় কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তবে দামের এই ফারাকের পিছনে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
পাঁচ টাকার ফিনাইলের দাম ৩৩,৫০০, ৩০৬ টাকার এলইডি ১১,৮০০! বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের পুরসভায় সরকারি খরচ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
Popular Categories


