হাওড়ার ডোমজুড় ব্লকের মাকড়দহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান পদে নির্বাচিত হলেন বিজেপির সদস্য ইন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে তাঁকে সমর্থন করেন তৃণমূলের সাতজন পঞ্চায়েত সদস্য। এর ফলে তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের দায়িত্ব গেল বিজেপির হাতে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
জগৎবল্লভপুর বিধানসভা এলাকার এই পঞ্চায়েতে মোট সদস্য সংখ্যা ২২। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন তৃণমূলের, একজন বিজেপির, একজন সিপিএমের এবং একজন নির্দল সদস্য। এতদিন পঞ্চায়েতটি তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু প্রাক্তন প্রধান দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন প্রধানের বিরুদ্ধে ডোমজুড় থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এরপর থেকে তিনি পঞ্চায়েতের কাজে আর নিয়মিত অংশ নিতেন না বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগে তিনি প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তারপরই নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন ঠিক করা হয়।
মঙ্গলবার নির্বাচন ঘিরে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। সেখানে প্রচুর পুলিশ ও র্যাফ মোতায়েন ছিল। প্রধান নির্বাচনের জন্য পঞ্চায়েতের সব সদস্যকে উপস্থিত থাকার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে ভোটের সময় মাত্র সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা অনুপস্থিত থাকায় ইন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান নির্বাচিত হন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ইন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, গত চার মাস ধরে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজ বন্ধ হয়ে ছিল। তাঁর অভিযোগ, বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছিল। এবার পঞ্চায়েতের পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং এলাকার উন্নয়নের কাজে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ডোমজুড়ের বিডিও অভিরাজ মিশ্র জানান, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই প্রধান নির্বাচন হয়েছে। সব সদস্যকে আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েতের কাজকর্ম যাতে আর বন্ধ না থাকে, প্রশাসন সে দিকে নজর রাখবে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডোমজুড় ব্লকের ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতই আগে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে তার মধ্যে ১৬টিতে তৃণমূলের প্রধান রয়েছেন। বাকি দু’টি, বেগড়ি ও মাকড়দহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্যরা প্রধান হয়েছেন।
এই পরিবর্তনের ফলে ডোমজুড় ব্লকের পঞ্চায়েত রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন প্রধানের নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক হয়, এখন সেদিকেই নজর বাসিন্দাদের।


