আন্তর্জাতিক কিছু মানবাধিকার সংগঠন মাইক্রোসফট এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন যে, এই কোম্পানিটি গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করলে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে পারে।
সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে অবলিশনিস্ট ল’ সেন্টার, আভাজ ফাউন্ডেশন, ইউরোপীয় লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার, সোমো, কনস্টিটিউশনাল রাইটস সেন্টার, একো এবং গ্লোবাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক। তারা জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করেছে।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কোম্পানির ক্লাউড সেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করেছে। ফলে সামরিক অভিযান দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে পরিচালিত হয়েছে। তারা বলেছে, কোম্পানি এবং তার কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ হতে পারেন।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৬৮,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,০০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবিক কর্মীরাও এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অক্টোবর ২০২৫-এর যুদ্ধবিরতি সহিংসতা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, মাইক্রোসফট এখনও অনেক ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটকে প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এই সংগঠনগুলি মাইক্রোসফটকে অনুরোধ করেছে, অবিলম্বে অবৈধভাবে ব্যবহৃত প্রযুক্তি বন্ধ করতে হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়কে পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তারা বলেছে, বিশাল আয়ের কোম্পানিও মানবাধিকার রক্ষা করার দায়িত্বে বাধ্য।


