মাত্র ১৭ বছর বয়সে সাহিত্য জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে কলকাতার কিশোরী রামশা রইস। চার বছরের মধ্যে সে লিখেছে পাঁচটি বই, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে আইএসসি শেষ করা এই কিশোরী শিক্ষার্থী , সাহিত্যেও অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। রামশা ১৩ বছর বয়সে তার প্রথম উপন্যাস ‘ফায়ারড’ প্রকাশ করে। এরপর ২০২২ সালে শিশুদের জন্য ‘দ্য ডোর টু দ্য স্টারস’ নামক ১৫টি ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। একই বছর রামশা অলৌকিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে ‘দ্য হাউলিং আলফা অ্যান্ড দ্য ফরেস্ট অফ ডিসেপশন (পর্ব-১)’ লেখে এবং পরবর্তী বছর প্রকাশ করে এর সিক্যুয়েল ‘দ্য হাউলিং আলফা অ্যান্ড দ্য সোর্ড অফ বেন (পর্ব-২)’। ২০২৪ সালে সে ফিলিস্তিনে নিরীহ মানুষের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে ‘টিয়ার্স অফ ইনোসেন্ট’ নামক একটি বই লিখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলে।
রামশার বইগুলি নোশন প্রেস, ব্লু-রোজ এবং অন্যান্য পরিচিত প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট ও অনলাইন স্টোরগুলোতে পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বুক অফ রেকর্ডস সংস্থা তাকে ‘ম্যাক্সিমাম নোভেল রিটেন অ্যান্ড পাবলিশড বাই আ টিন-এজার’ বিভাগে সম্মান দিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন কিশোরী হিসেবে রামশার এই কৃতিত্ব অর্জন সহজ ছিল না। তার পরিবারে কোনো সাহিত্যিক পটভূমি বা বিশেষ আর্থিক সহায়তা ছিল না। তবু তার সাহস, প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের ফলে সে আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছে।
রামশার লেখায় মানুষের কষ্ট, সহিষ্ণুতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়। বিশেষত ফিলিস্তিনে নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতন, বিশ্বজুড়ে মানবতার সংকট এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য, সবই তার লেখায় ফুটে উঠেছে।


