Friday, March 6, 2026
21.9 C
Kolkata

হিজাব পড়া মহিলাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ!

বিশ্বজুড়ে যখন নারীর স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, তখন সমাজের আরেকটি উদ্বেগজনক বাস্তবতাও সামনে আসছে। এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নারীরা কী পোশাক পরবে বা কীভাবে নিজেদের প্রকাশ করবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে চান। বিশেষ করে মুসলিম নারীরা হিজাব পরলে অনেক সময় তাদের প্রতি অকারণ ভয়, সন্দেহ বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হয়। এই মানসিকতাকে সাধারণভাবে ‘হিজাবোফোবিয়া’ বলা হয়।

হিজাব মূলত একটি মাথা ঢাকার কাপড়, যা অনেক মুসলিম নারী ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত মর্যাদার অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু এই দৃশ্যমান ধর্মীয় চিহ্নের কারণেই বহু নারী বিভিন্ন জায়গায় অপমান, বিদ্রূপ কিংবা বৈষম্যের মুখে পড়েন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কখনও কখনও এমন খবর, মন্তব্য বা কনটেন্ট ছড়ানো হয় যা মানুষের মনে ভুল ধারণা, ভয় এবং বিদ্বেষ তৈরি করে।

সম্প্রতি বিহারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক মুসলিম মহিলা চিকিৎসকের নিকাব জোর করে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। এই ঘটনাকে ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ক্ষমতার অবস্থানে থাকা মানুষদের আচরণ কি সবসময় সংবেদনশীল হয়? এমন ঘটনার মাধ্যমে সমাজে কী বার্তা পৌঁছায় তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অসহিষ্ণুতার বিষয় নয়; এর পেছনে গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মানসিকতা কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার যে প্রবণতা সমাজে রয়েছে, তারই আধুনিক প্রকাশ হিসেবে কেউ কেউ হিজাববিরোধী মনোভাবকে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, হিজাবকে অনেক সময় নারীর স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক নারী এটিকে নিজের পরিচয়, বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতীক হিসেবে মনে করেন। তাই হিজাব পরা বা না পরা, উভয় ক্ষেত্রেই নারীর নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বাড়াতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মত ও অভিজ্ঞতার সঠিক প্রতিফলন ঘটলে ভুল ধারণা কমবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়বে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়টি কেবল একটি পোশাককে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি মানবাধিকার, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার সঙ্গেও জড়িত। তাই সমাজের সব স্তরে সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Hot this week

হায়দরাবাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যাকে ঘিরে বিক্ষোভ, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে মিম নেতৃত্ব

হায়দরাবাদে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকে...

ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধাক্কা, বিনিময় মূল্য পৌঁছল ৯২ টাকার ঘরে!

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।...

গরু পাচারের মিথ্যে অভিযোগে বিজেপি শাসিত রাজস্থানে এক মুসলিম যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদ!

রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য...

বিদ্যুৎ খুঁটি বোঝাই গাড়ি উল্টে প্রাণ গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের এক মসজিদের রোজদার ইমামের!

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক মসজিদের...

Topics

হায়দরাবাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যাকে ঘিরে বিক্ষোভ, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে মিম নেতৃত্ব

হায়দরাবাদে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকে...

ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধাক্কা, বিনিময় মূল্য পৌঁছল ৯২ টাকার ঘরে!

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।...

গরু পাচারের মিথ্যে অভিযোগে বিজেপি শাসিত রাজস্থানে এক মুসলিম যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদ!

রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য...

বিদ্যুৎ খুঁটি বোঝাই গাড়ি উল্টে প্রাণ গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের এক মসজিদের রোজদার ইমামের!

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক মসজিদের...

মাঝ রাস্তায় ‘চোর’ সম্বোধন হুমায়ুনকে! মিডিয়ার সামনে মেজাজ হারালেন ভরতপুরের বিধায়ক

কলকাতার কিড স্ট্রিটে বিধায়ক হোস্টেলের সামনে এক সংবাদ মাধ্যমকে...

‘মার্কিন বশ্যতা’ মেনে নিল দিল্লি? তীব্র সমালোচনায় সরব রাজনৈতিক বিরোধীদলগুলি

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের...

এসআইআর ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ধর্না কর্মসূচিতে বসলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা

সম্প্রীতি প্রকাশ হয়েছে এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকা। সেই তালিকায়...

Related Articles

Popular Categories