Tuesday, October 20, 2026
30 C
Kolkata

হিজাব পড়া মহিলাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ!

বিশ্বজুড়ে যখন নারীর স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, তখন সমাজের আরেকটি উদ্বেগজনক বাস্তবতাও সামনে আসছে। এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নারীরা কী পোশাক পরবে বা কীভাবে নিজেদের প্রকাশ করবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে চান। বিশেষ করে মুসলিম নারীরা হিজাব পরলে অনেক সময় তাদের প্রতি অকারণ ভয়, সন্দেহ বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হয়। এই মানসিকতাকে সাধারণভাবে ‘হিজাবোফোবিয়া’ বলা হয়।

হিজাব মূলত একটি মাথা ঢাকার কাপড়, যা অনেক মুসলিম নারী ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত মর্যাদার অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু এই দৃশ্যমান ধর্মীয় চিহ্নের কারণেই বহু নারী বিভিন্ন জায়গায় অপমান, বিদ্রূপ কিংবা বৈষম্যের মুখে পড়েন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কখনও কখনও এমন খবর, মন্তব্য বা কনটেন্ট ছড়ানো হয় যা মানুষের মনে ভুল ধারণা, ভয় এবং বিদ্বেষ তৈরি করে।

সম্প্রতি বিহারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক মুসলিম মহিলা চিকিৎসকের নিকাব জোর করে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। এই ঘটনাকে ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ক্ষমতার অবস্থানে থাকা মানুষদের আচরণ কি সবসময় সংবেদনশীল হয়? এমন ঘটনার মাধ্যমে সমাজে কী বার্তা পৌঁছায় তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অসহিষ্ণুতার বিষয় নয়; এর পেছনে গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মানসিকতা কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার যে প্রবণতা সমাজে রয়েছে, তারই আধুনিক প্রকাশ হিসেবে কেউ কেউ হিজাববিরোধী মনোভাবকে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, হিজাবকে অনেক সময় নারীর স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক নারী এটিকে নিজের পরিচয়, বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতীক হিসেবে মনে করেন। তাই হিজাব পরা বা না পরা, উভয় ক্ষেত্রেই নারীর নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বাড়াতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মত ও অভিজ্ঞতার সঠিক প্রতিফলন ঘটলে ভুল ধারণা কমবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়বে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়টি কেবল একটি পোশাককে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি মানবাধিকার, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার সঙ্গেও জড়িত। তাই সমাজের সব স্তরে সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Hot this week

থিমের দাপট বন্ধ হোক, হইহুল্লোড় নয়’, আগামী বছর থেকে সাত্ত্বিক পুজোর ডাক কৌস্তভ বাগচীর!

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর পুজোর...

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ...

চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা, দায়িত্বে ছিলেন দুই ডিসি!

দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা...

‘নীতীশকে সাহায্য করতে ৯ জনকে খুন!’ বিস্ফোরক দাবি অনন্ত সিংয়ের, বিতর্কের মুখে সুর বদল বিধায়কের

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন...

Topics

থিমের দাপট বন্ধ হোক, হইহুল্লোড় নয়’, আগামী বছর থেকে সাত্ত্বিক পুজোর ডাক কৌস্তভ বাগচীর!

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর পুজোর...

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ...

চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা, দায়িত্বে ছিলেন দুই ডিসি!

দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা...

‘নীতীশকে সাহায্য করতে ৯ জনকে খুন!’ বিস্ফোরক দাবি অনন্ত সিংয়ের, বিতর্কের মুখে সুর বদল বিধায়কের

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন...

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, পুজো কমিটির দখল নিয়ে বিতর্ক! নিশানায় বিজেপি নেতৃত্ব

উৎসবের আবহে বিষাদের ছায়া। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে...

Related Articles

Popular Categories