দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ১৯ দিন ধরে অনশনে বসে আছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, NEET পরীক্ষার অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। শরীর ভেঙে পড়লেও আন্দোলন থেকে সরে আসতে রাজি নন তিনি।
একটি ভিডিও বার্তায় ৫৯ বছরের ওয়াংচুক বলেন, “শরীর খুব একটা ভালো নেই, তবে এখনও লড়াই চালিয়ে যেতে পারছি।”
তাঁর চিকিৎসক ডা. সতীশ লাম্বা জানান, অনশন শুরু করার পর থেকে ওয়াংচুকের ৯ কেজিরও বেশি ওজন কমেছে। এখন তাঁর ওজন ৫৬.৬৫ কেজি। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০০ গ্রাম ওজন কমেছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এখনও সচেতন থাকলেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
সমর্থকদের উদ্দেশে ওয়াংচুক বলেন, কেউ যেন তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ না করেন। তার বদলে ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াংচুকের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছাত্রনেতাও অনশনে রয়েছেন। AISA-র দাবি, তাদের তিন নেতা নেহা, মনীশ ও আমিনেরও শরীর খারাপ হয়েছে এবং তাঁদের ওজনও অনেকটাই কমেছে। এছাড়া কয়েকজন ছাত্রনেতাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন শশী থারুর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল -সহ একাধিক বিরোধী নেতা। অভিনেত্রী জিনাত আমানও সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, ১,৮০০-র বেশি শিল্পী, লেখক ও শিক্ষাবিদ আন্দোলনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে অনশনকারীদের স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে অনশন শেষ করার আবেদন করেছেন।


