নদিয়ার কালীগঞ্জে এক মর্মান্তিক ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। উপ-নির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার বিচার না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছিল এক পরিবারের সদস্যরা।
গত বছরের ২৩ জানুয়ারি কালীগঞ্জে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আলিফা খাতুন জয়ী হন। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগ ওঠে, মিছিল থেকে বোমা ছোড়া হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের জেরে গুরুতর আহত হয় এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, তামান্না খাতুন। পরে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
তামান্নার মৃত্যুর পর থেকেই তার পরিবার বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে, এখনও পর্যন্ত তারা ন্যায়বিচার পায়নি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। মেয়ের মৃত্যুর শোক সামলে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিচার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পর তামান্নার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে অস্বীকার করেন সাবিনা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, টাকার চেয়ে তিনি চান মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার।
এরই মধ্যে কালীগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সমবায় সমিতির নির্বাচনে বাম সমর্থিত প্রার্থীরা সবকটি আসনে জয়ী হন। এর ফলে এলাকায় বামেদের প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও করে বাম কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাম নেতারা, যেমন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং মহম্মদ সেলিম। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন তামান্নার মা-ও। তাঁর উপস্থিতি অনেকের নজর কাড়ে।
এবার আসন্ন নির্বাচনে কালীগঞ্জ থেকেই প্রার্থী করা হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনকে। সিপিএমের টিকিটে ভোটের ময়দানে নামছেন তিনি। যে জায়গায় তিনি নিজের মেয়েকে হারিয়েছিলেন, সেই জায়গাতেই এবার ভোটে লড়বেন সাবিনা। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে সাবিনার এই পদক্ষেপকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।


