জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শনিবার ইসলামোফোবিয়া বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারগুলিকে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে অনলাইন ঘৃণা ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গুতেরেস বলেন, “মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী জাতিগত প্রোফাইলিং থেকে শুরু করে উপাসনালয়ে হামলা—এসবই উদ্বেগের কারণ।” তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও বৈশ্বিকভাবে এই সমস্যা মোকাবিলার তাগিদ দেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “একটি গোষ্ঠীকে আক্রমণ করলে সমস্ত মানুষের অধিকারই ঝুঁকিতে পড়ে। বৈশ্বিক সম্প্রদায় হিসেবে আমাদের অবশ্যই বিদ্বেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে তিনি ঘৃণাসর্বক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা রাখতে বলেন। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে ধর্মীয় গোঁড়ামি, বিদেশীভীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে সশস্ত্র হামলায় ৫০ জনের বেশি প্রাণ হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৫ মার্চকে ইসলামোফোবিয়া বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। পাকিস্তান উত্থাপিত ও চীন সহ-প্রস্তাবিত ‘ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় পদক্ষেপ’ শীর্ষক প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে ১১৫টি দেশের সমর্থন পায়। ভারত, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যসহ ৪৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। কোনো দেশই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি।
দিবসটি উপলক্ষে গুতেরেস শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে বলেন, “ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা একসঙ্গে কাজ করব। এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভয়মুক্তভাবে বসবাস করা যাবে।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিসংঘ মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা রোধে আন্তর্জাতিক সংহতির গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।