
উত্তরাখণ্ডের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যজুড়ে ৮৪টি মাদ্রাসা সিল করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নির্দেশে এই অভিযানকে মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিচয়ের উপর হামলা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অবস্থিত এসব মাদ্রাসার মধ্যে দেওবন্দে ৪৩টি, হরিদ্বার ও নৈনিতালে ৩১টি এবং উধম সিং নগরে ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, এই মাদ্রাসাগুলো আইনগত নিয়ম মানছিল না এবং অবৈধভাবে চলছিল। তবে মুসলিম নেতারা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে চাইছে। তাদের মতে, হিন্দু বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের অসংগঠিত স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে একই রকম পদক্ষেপ না নেওয়ায় এখানে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামুন কাশ্মীর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সরকারি স্বীকৃতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে কোনো মাদ্রাসাকে হয়রানি করা হবে না, এবং সিল করা প্রতিষ্ঠানগুলোও পুনরায় চালু হতে পারবে। তবে অনেক মাদ্রাসা ব্যবস্থাপক এই আশ্বাসকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্বীকৃতির প্রক্রিয়া জটিল করে ইসলামী শিক্ষাকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। দেওবন্দের এক মাদ্রাসা শিক্ষক জানান, “হঠাৎ করে পুলিশ এসে তালা লাগিয়ে দিল। আমাদের শিশুরা এখন কোথায় যাবে? এটা তো আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা।” সম্প্রদায়ের অনেকেরই ধারণা, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু প্রতিষ্ঠান আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মীরা এই পদক্ষেপকে সংখ্যালঘুদের উপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের নতুন অধ্যায় বলে চিহ্নিত করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নিয়মিত প্রক্রিয়া, নাকি রাজ্য সরকারের ইসলামবিদ্বেষী নীতি? উত্তরাখণ্ডের মুসলিম সমাজের মধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়ছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার দিকে এগোতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।