কলমে নিজাম পারভেজ: আজ, ২ এপ্রিল ২০২৫, সংসদে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল উত্থাপিত হতে চলেছে। এটি কেবল একটি আইন নয়, বরং ভারতের মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। মুসলমানদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য ওয়াকফ বোর্ড ছিল, কিন্তু বিজেপি সরকার এই বিলের মাধ্যমে সেই সুরক্ষা ভেঙে দিতে চাইছে। এবং যদি তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই বিলের বিরোধিতা না করে, তাহলে এটি ভারতের মুসলমানদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণা হবে।
ইতিহাস সাক্ষী, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিতর্কের সময়, তৃণমূল সাংসদরা বিতর্ক চলাকালীন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল, তবে সরাসরি ভোট দিয়ে বিরোধিতা করেনি।

ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো মূলত মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, দরগা এবং সামাজিক সেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। বিজেপি সরকার এই সম্পত্তিগুলো বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি কেবল সম্পত্তি দখলের বিষয় নয়, বরং মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
এটি ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)-এর ধারাবাহিকতা মাত্র। বিজেপির পরিকল্পনা হলো ধাপে ধাপে মুসলমানদের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। প্রথমে UCC-এর মাধ্যমে মুসলিম পার্সোনাল ল’ বাতিল করার প্রচেষ্টা হয়েছে, এখন ওয়াকফ বিলের মাধ্যমে মুসলমানদের শেষ সম্পদটুকুও কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

একটি বড় প্রশ্ন হলো— তৃণমূল এই বিলের বিরুদ্ধে কতটা জোরালোভাবে লড়বে? যদি তারা আবারও সংসদ থেকে বেরিয়ে যায় বা ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকে, তবে এটা হবে মুসলমানদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা ইতিমধ্যেই সন্দেহজনক। সংসদের যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটি (JPC) যখন কলকাতায় বৈঠক করেছিল, তখন তৃণমূলের সাংসদরা মুসলিম সাংসদদের কথা বলতে দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই মিটিং প্রায় বাতিল হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, এবং কয়েকদিন পর JPC বিলটি অনুমোদন করে দেয়— যা কোনোভাবেই হওয়া উচিত ছিল না।
তৃণমূল যদি সত্যিই মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, তাহলে তাদের সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিলের বিরুদ্ধে সরাসরি ভোট দিতে হবে এবং কড়া অবস্থান নিতে হবে। তারা যদি ভোট না দেয় বা বিজেপিকে সুবিধা করে দেয়, তাহলে এটা মুসলমানদের জন্য স্পষ্ট বার্তা হবে যে তৃণমূল তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং আর তাদের সমর্থন করা উচিত নয়।
বিজেপির লক্ষ্য হলো মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ধ্বংস করা। আজ যদি ওয়াকফ বিল পাস হয়, তাহলে আগামী দিনে মুসলিম পার্সোনাল ল’ও বিলুপ্ত হবে। এরপর মুসলমানদের জন্য আর কিছুই থাকবে না।
তাই মুসলমানদের এখন সজাগ হতে হবে এবং স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে— যদি তৃণমূল কংগ্রেস ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে ভোট না দেয়, তাহলে মুসলমানদের আর কখনও তাদের সমর্থন করা উচিত নয়।
এই লড়াই শুধু ওয়াকফ রক্ষার লড়াই নয়, এটি মুসলমানদের অস্তিত্বের লড়াই। যদি আজ চুপ করে থাকা হয়, তাহলে আগামী দিনে মুসলমানদের আর কিছুই থাকবে না।