গুজরাতের বদোদরায় প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে ঘিরে সরকারি জমি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বাংলোর পাশে থাকা প্রায় ১ হাজার বর্গমিটার জমির অর্ধেক বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বদোদরা পুরসভা। বাকি জমি কেনার ক্ষেত্রেও তাঁকে বাজারদরের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম দাম দিতে হবে। পুরো জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।এই জমি নিয়ে বিতর্কের শুরু ২০১২ সালে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইউসুফ ওই জমি নিজের নামে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তখন পুরসভার সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং সাধারণ সভা তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। সেই সময় জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ইউসুফ পুরো টাকা দিতে রাজি থাকলেও রাজ্য সরকারের অনুমতি না মেলায় জমি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।২০১৪ সালে গুজরাত সরকারের নগরোন্নয়ন দফতর তাঁর আবেদন বাতিল করে দেয়। এরপর পুরসভার অভিযোগ ছিল, অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও ইউসুফ জমিটি ঘিরে ফেলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইও শুরু হয়।২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ইউসুফ। ওই নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীকে হারান। এরপর বদোদরা পুরসভা তাঁকে জমির চারপাশের বেড়া সরানোর নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে গুজরাত হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। ২০২৫ সালের অগাস্টে আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে ডিভিশন বেঞ্চেও স্বস্তি পাননি ইউসুফ। আদালতের পর্যবেক্ষণে জমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে।গত ৩১ অগাস্ট আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, ইউসুফ মামলা প্রত্যাহার করতে চান। আদালতের বাইরে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে তাঁর আইনজীবী জানান।এরপর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবটি সামনে আসে। সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট জমির মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার তাঁকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমি কিনতে পারবেন বিশেষ ছাড়ে। জুলাই মাসে এই জমি নিলামে তোলার প্রস্তুতি চলছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। তখন প্রতি বর্গমিটারের দাম ধরা হয়েছিল ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।বদোদরা পুরসভার কমিশনার অরুণ মহেশবাবু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। প্রস্তাবটি পুরসভার স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ সভায় পাঠানো হবে।জমি দখলের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দিতে হলে ইউসুফকে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হতে পারত বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে তাঁকে সেই অর্থ দিতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জমি হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
তৃণমূল ছাড়তেই ‘অচ্ছে দিন’NCPI নেতা ইউসুফের! জমি দখল বিতর্কে নতুন মোড়, ইউসুফ পাঠানকে গুজরাতে ২০ কোটি টাকার সরকারি জমি দেওয়ার প্রস্তাব, অর্ধেক মিলবে বিনামূল্যে
Popular Categories


