দুবাইয়ে কাজের আশায় পাড়ি দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন পরিযায়ী শ্রমিক এখন চরম দুরবস্থায়। মাত্র দুই মাস আগে তারা বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে সেখানে যান, তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ, খাওয়া-থাকা ও বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, দুই বছর পর বিনামূল্যে রিটার্ন টিকিটসহ নানা সুবিধার। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে তারা দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র। অভিযোগ, যাদের কার্পেন্টার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে কনস্ট্রাকশনের ভারী কাজ। থাকার জায়গা নির্মীয়মাণ ভবনের নিচে, যেখানে নেই কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে, তাও বাড়তি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই।
মাত্র ১১ দিন কাজের পর শ্রমিকরা যখন বেতন দাবি করেন, তখন কোম্পানি জানায় তাদের দেশে ফেরানো হবে। কিন্তু ফেরার বদলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, অভিযোগ জানাতে হলে লেবার কোর্টে যেতে হবে। কিন্তু স্থানীয় সিম না থাকায় তারা অভিযোগও করতে পারেননি। পরবর্তীতে ৮ নভেম্বর কোম্পানি তাদের আবাসন থেকে বের করে দেয়। তখন থেকেই এই ১১ জন শ্রমিক কিছুদিন নিজেদের টাকায় হোটেলে থেকেছেন, কিন্তু এখন খাবারের টাকাও জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের। এই শ্রমিকদের মধ্যে মুর্শিদাবাদের তিনজন, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনারও কয়েকজন রয়েছেন।
পরিস্থিতির কথা জেনে মুর্শিদাবাদের কর্নোসুবর্ণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক মতিউর রহমান বিষয়টি লিখিত ভাবে সরকারের কাছে জানিয়েছেন। এই সংস্থার পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও দুবাই প্রশাসনের কাছে শ্রমিকদের উদ্ধারের আবেদন করা হয়েছে। দুবাইয়ে আটক থাকা শ্রমিকরা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “আমরা বাড়ি ফিরতে চাই। কোম্পানি কোনো সাহায্য করছে না।”


