নদিয়া জেলার করিমপুর থানার গমাখালি গ্রামের এক বৃদ্ধ মানুষের জীবনসংগ্রাম আজও অনেককে ভাবায়। বয়স প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই হলেও থেমে নেই তাঁর রোজকার লড়াই। নাম তাঁর শুকুরুদ্দিন সেখ। যে বয়সে অনেকেই বিশ্রাম নেন, সেই বয়সে রোজ ভোরে ফজরের আযানের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দিন শুরু হয়।নামাজ শেষ করে তিনি বেরিয়ে পড়েন জীবিকার খোঁজে। পুরনো সাইকেলের পেছনে বাঁধা থাকে পাকা কলা ভর্তি দুটি ঝুড়ি। গ্রীষ্ম, শীত, বৃষ্টি, কোনও কিছুই তাঁকে আটকাতে পারে না। “কলা নেবে, কলা”—এই হাঁক দিতে দিতে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়ান তিনি। কখনও নদিয়া ছাড়িয়ে পাশের জেলা মুর্শিদাবাদেও পৌঁছে যান। সারাদিনের এই কঠিন পরিশ্রমের শেষে তাঁর আয় হয় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য উপার্জনেই চলে তাঁর দু’জনের সংসার।
শুকুরুদ্দিন জানালেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সাইকেল চালিয়েই কাজ করছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত পরিশ্রমই তাঁর শরীর ভালো রাখার আসল চাবিকাঠি। বয়সজনিত কিছু সমস্যা থাকলেও বড় কোনও রোগে ভোগেন না তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি যে কমে আসছে, সেটাও মানেন বৃদ্ধ। কিছু বছর আগেও তিনি প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে মুর্শিদাবাদের দেবীপুর থেকে আখের গুড় এনে বিক্রি করতেন। এলাকার মানুষ তাঁর গুড় খুব পছন্দ করত। এখন আর সেই পরিমাণ পরিশ্রম সম্ভব নয় বলে কাছাকাছি গ্রামেই কলা বিক্রি করে দিন কাটছে।
পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নাতিদের মধ্যে একজন স্কুল শিক্ষক। তবে সবাই নিজেদের জীবনে ব্যস্ত। শীতের দিনে কষ্ট হয় বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবু পেটের দায়ে কাজ থামানো যায় না।গমাখালির এই বৃদ্ধ মানুষ আজও প্রমাণ করে চলেছেন, পরিশ্রম, আত্মসম্মান আর বেঁচে থাকার ইচ্ছাই জীবনের আসল শক্তি। তাঁর গল্প নিঃশব্দে বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্ব ও শ্রমের মূল্য শেখায়।


