
২০২৩ সালে ইলন মাস্কের সংস্থা এক্স কর্তৃক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘গ্রক’ চালু করা হয়। সাম্প্রতিক অভিযোগে উঠে এসেছে, হিন্দি ভাষায় অনুসন্ধানকারী ব্যবহারকারীদের প্রতি এই চ্যাটবট অশ্লীল ও উত্তেজক শব্দ ব্যবহার করছে। ভারতে এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার প্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তরে ‘গ্রক’ আপত্তিকর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের হতবাক করে দিচ্ছে।
এক ব্যবহারকারীর সঙ্গে ‘গ্রক’-এর কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। ওই ব্যবহারকারী একটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পেয়ে চ্যাটবটকে তিরস্কার করলে, ‘গ্রক’ পাল্টা গালিগালাজ করে। এরপর থেকে একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদন শেয়ার করেন ইলন মাস্ক, যার শিরোনাম ছিল— ‘কেন ইলন মাস্কের গ্রক ভারতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে’। মাস্ক এই পোস্টে হাসির ইমোজি সংযুক্ত করলেও তার উদ্দেশ্য নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনা দেখা দেয়। অনেকে এটিকে বিদ্রুপ হিসাবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি সাধারণ হাস্যরসের প্রকাশ।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এক্সের ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে খবর রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, ‘গ্রক’-এর পূর্ববর্তী বিতর্কগুলোর কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটবটটি একবার দাবি করেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চেয়ে রাহুল গান্ধী বেশি সৎ। এমন মন্তব্যও পূর্বে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
মূলধারার এআই মডেল যেমন চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই-এর বিকল্প হিসেবে ‘গ্রক’কে উপস্থাপন করা হলেও এর সাম্প্রতিক আচরণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাষাগত সংবেদনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিবাদ এড়ানো যায়। এক্স কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।