
নদীয়া, পলাশী: শিশু ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ সংগঠিত করার অভিযোগে ছাত্রনেতা রেজা শেখকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূত কার্যক্রম ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রাতে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বিনা নোটিশে মীরা আরওপি আউটপোস্টে নিয়ে গিয়ে সারারাত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে। সূত্রে জানা গেছে, পলাশীতে ৪ বছরের এক শিশুর ধর্ষণের ঘটনায় গত সপ্তাহে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সভা আয়োজনে নেতৃত্ব দেন রেজা। তিনি ছাত্র ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই) নদীয়া জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদী আন্দোলনের পরিচিত মুখ। অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে পুলিশি রোষের শিকার হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত রাতে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তাকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। মীরা আউটপোস্টে তাকে চেয়ার-বেঁধে রেখে অকথ্য গালাগালি, শারীরিক প্রহার এবং মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় অধিকার সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রেজার পরিবার ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি যেহেতু কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়িত নন, তাই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি কোনো প্রমাণ নেই। শিশু ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ন্যায়বিচার চাওয়াকে অপরাধ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন বলে তাদের অভিযোগ। এসএফআই নদীয়া জেলা কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শাসকদলীয় চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় রেজাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। পুলিশি জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি গণআন্দোলন গড়ে তুলব।” স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রেজা শেখ বরাবরই সামাজিক অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার গ্রেপ্তারে পলাশীতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। পুলিশের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে, কালিগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। রেজার অবিলম্বে মুক্তি ও নির্যাতনের তদন্তের দাবিতে শুক্রবার পলাশীতে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।