
আসন্ন চৈত্র নবরাত্রি উৎসব, যা ৩০ মার্চ, রবিবার থেকে শুরু হবে, তার আগে উত্তরপ্রদেশ সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যে অবৈধ জবাইখানা বন্ধ করতে হবে এবং ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে।
উৎসবের পবিত্রতা ও সম্প্রীতি রক্ষার উদ্দেশ্য
এই নিয়মগুলি চালু করা হয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং উৎসবের পবিত্রতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। চৈত্র নবরাত্রি দেবী দুর্গার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা একটি উৎসব, যা উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়।
এছাড়াও, ৬ এপ্রিল রাম নবমীর দিনে আরও কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। ওই দিন রাজ্যজুড়ে পশু জবাই এবং মাংস বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ধর্মীয় উৎসবের মর্যাদা রক্ষা করা এবং উৎসব চলাকালীন জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
সরকারি বিবৃতি ও নির্দেশনা
শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নগর উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সচিব অমৃত অভিজাত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কমিশনার এবং পৌর কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন অবিলম্বে অবৈধ জবাইখানা বন্ধ করা হয় এবং ধর্মীয় স্থানের কাছে মাংস বিক্রি বন্ধ করা হয়। সরকার এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জারি করা আদেশের কথাও উল্লেখ করেছে, যেখানে পশু জবাই ও উপাসনাস্থলের কাছে মাংস বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

এই নির্দেশগুলি কার্যকর করার জন্য জেলা স্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। কমিটিতে থাকবেন পুলিশ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, পশুপালন বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, শ্রম বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং খাদ্য সুরক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এই সমন্বিত দলগুলি নিশ্চিত করবে যে সরকারের নির্দেশ পুরোপুরি পালিত হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, যারা এই নিয়ম ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালের ইউপি পৌর কর্পোরেশন আইন এবং ২০০৬ ও ২০১১ সালের খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শান্তিপূর্ণ উৎসবের প্রতিশ্রুতি
কর্তৃপক্ষ আইনের শাসন মেনে চলার পাশাপাশি উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করতে বদ্ধপরিকর। এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে তারা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উৎসবের মসৃণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে চায়।
এইভাবে, উত্তরপ্রদেশ সরকার চৈত্র নবরাত্রি ও রাম নবমীকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় জিগির তুলে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে।