
শেষ রক্ষা আর হলো না। অবশেষে মধ্যরাতে সংসদে পাশ হলো ওয়ার্ক অফ বিল। দীর্ঘ বিতর্ক এবং বিরোধিতা হওয়া সত্ত্বেও, বিলের পক্ষে ২৮৮ এবং বিপক্ষে ২৩২ জন সংসদ ভোট দান করলেন। মাত্র ৫৬ ভোটের ব্যবধানে পাশ হল সংশোধিত ওয়াকফ বিল। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, লোকসভায় এই বিল পাস করানোর পর এবার রাজ্যসভায় পেশ করা হবে ওয়াকফ বিলকে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, লোকসভার মতো রাজ্য সভাতেও এই বিল পাস করতে, কেন্দ্রকে বিশেষ পরিশ্রম করতে হবে না।
লোকসভায় মোট ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে, ১২ জন জেডিইউ, এবং ১৬ জন টিডিপি রয়েছে। এছাড়াও লোকসভায় চিরাগ পাসোয়ান ও শিন্ডে সেনার দলের সমর্থন পেয়েছে বিজেপি। যে কোনো বিল লোকসভায় পাশ করাতে ২৭২ জন সাংসদের সমর্থন একান্ত প্রয়োজন।
বিজেপির দাবি, লোকসভায় পাশ হওয়া নতুন বিলের নিয়ম অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তিতে সংখ্যালঘুদের আর একচেটিয়া আধিপত্য থাকবে না। কোন সম্পত্তি ওয়াকফ কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জেলাশাসক বা তার সমপদ মর্যাদা সম্পন্ন কোন আধিকারিক।
কি এই ওয়াকফ বিল?
ভারতীয় সংবিধানে প্রথম ১৯৫৪ সালে ওয়াকফ আইন বলবৎ হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এই আইনের সংশোধনী বিল পাস হয়। বর্তমানে, অর্থাৎ ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১.২ লক্ষ্য কোটি টাকা। যার মধ্যে ৯.৪ লক্ষ একর জমি এবং ৮.৭ লক্ষ সম্পত্তি রয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশ সহ বিরোধী দলগুলি মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার এই সম্পত্তি কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে, ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ওয়াকফ বিল সংক্রান্ত বিজেপির শর্তসাপেক্ষ নিয়মাবলী, যা উপস্থিত আছে নতুন ওয়াকফ সংশোধনী বিলে:
1) আগে যেকোনো সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে গণ্য করা যেত। এখন জেলার প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনারের হাতে দেওয়া হয়েছে।
2) ওয়াকাফের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত সম্পত্তি গুলিকে কেন্দ্রীয় পোর্টালে ডিজিটাল নথিভুক্তকরণ করতে হবে।
3) তিন সদস্যের ট্রাইবুনাল ২ সদস্যে সীমিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। ৯০ দিনের মধ্যে এপিল করা যাবে।
4) ওয়াকাফ বোর্ড এবং সেন্ট্রাল ওয়াকাফ কাউন্সিলে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মুসলিম সংগঠন গুলি এবং বিরোধী দলগুলি এই আইনের বিরোধিতা করছে। তারা মনে করছে বিজেপি সম্পত্তির অধিকার মুসলিমদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বলে দাবি করতে পারে। জমিয়তে ইসলামি হিন্দ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্যরা মনে করছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে নতুন ওয়াকফ বিল পাশ করল বিজেপি সরকার।