ঝাড়গ্রামের একটি সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য রাতের খাবার হিসেবে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা দেখে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। একটি স্টিলের বাটিতে পাতলা ঝোলের মধ্যে ভাসছে মাত্র কয়েক টুকরো মাংস। ছবিটি দেখে মনে হয়, এই খাবার যেন কোনও রসিকতা! সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ঝাড়গ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা লিখেছেন—এমন মাংসের টুকরো দেখে মুরগি নিজেই লজ্জায় মাটিতে মুখ লুকোবে। তাঁর এই মন্তব্যে হাসি-ঠাট্টার মাঝেও উঠে এসেছে এক গভীর সমস্যার চিত্র।
সরকারি হাসপাতালে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগের ঝুলি তো ভরাই আছে। কিন্তু এবার তো সেই অভিযোগ এসেছে সরকারেরই একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে। বিরবাহা হাঁসদা নিজে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েও কেন এমন সমালোচনা করলেন? তিনি ফোনে জানিয়েছেন, মানুষের প্রতি তাঁর একটা দায় আছে। যে মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে, তাদের এমন খাবার খেতে দেখে মন খারাপ না হয়ে পারে না। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু কিছু অসৎ লোক মাঝখানে ঢুকে সব গন্ডগোল করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী সব রকম চেষ্টা করছেন, কিন্তু দুর্নীতির জন্য সরকারের নামে কালি পড়ছে।
এই ঘটনা শুধু খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি, একটা বড় দ্বন্দ্বও সামনে এনেছে। মন্ত্রী যদি নিজেই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাহলে দায়টা কার? তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কথা বলবেন। তাঁর যুক্তি, নজরদারি বাড়ানো দরকার। কারণ, আজ যে রোগী এই খাবার খাচ্ছে, কাল তাঁর নিজের পরিবারের কেউও তো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। তখন এই একই খাবার তাঁদেরও খেতে হবে। এই কথায় যেন একটা আবেগের টান অনুভব করা যায়, যা আমাদের সবাইকে ভাবতে বাধ্য করে।
এই ঘটনা থেকে মনে একটা প্রশ্ন জাগে—সরকারি হাসপাতালে কবে মানুষের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা হবে? স্বাস্থ্যের জন্য তো শুধু ওষুধ নয়, পুষ্টিকর খাবারও চাই। বিরবাহা হাঁসদার এই কটাক্ষ কি সত্যিই কিছু বদল আনবে, নাকি এটাও শুধু আলোচনার ঝড় তুলে থেমে যাবে? আশা করি, এবার সরকার এই সমস্যার দিকে একটু গভীর নজর দেবে। কারণ, মানুষের ভালো থাকাটাই তো সবার আগে।


