উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যার সময় দুর্গম এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাগরাকাটা ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক ৩২ বছর বয়সী মোল্লা ইরফান হোসেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যে ছবি শেয়ার করেছেন, তা শুধু সাহসিকতার নিদর্শন নয়, বরং পেশার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার প্রতীক। ইরফান হোসেন দড়ি বেয়ে ৫০ ফুটের বেশি গভীর খাদ পার হয়ে বামনডাঙা গ্রামের আহত ও বিচ্ছিন্ন মানুষদের কাছে পৌঁছেছেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে কেউ হয়তো এটিকে ‘অ্যাডভেঞ্চার’ হিসেবে দেখত, তবে তার কাছে এটি ছিল পেশাগত দায়িত্ব পালন। দড়ি না পেরোলেই ওই মানুষদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হত না।
বর্ধমানের ছেলে ইরফান হোসেন বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েজ স্কুল ও আল আমিন মিশন থেকে পড়াশোনা শেষে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষাজীবন থেকেই মানুষের সেবা করার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। ইরফান বলেন, তিনি কোনো বিরাট কাজ করেননি, পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন ,” তবে এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বল দিকও তুলে ধরে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর মতো পরিকাঠামো বা জরুরি ব্যবস্থা নেই।” ইরফান হোসেনের সাহসিকতা ও মানবিকতা আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য দায়বদ্ধতার পাঠ হয়ে থাকবে।


